web

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার নছরতপুর গ্রামের অবিবাহিত বৃদ্ধা কয়জুন বেগম ৬৫ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অভাব অনটনে বিয়ে না হওয়ায় ভাইয়ের সংসারে থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে কষ্টের মধ্যে জীবন ধারণ করছেন। স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে ধরনা দিয়েও পাননি ভাতা। তার প্রশ্ন আর কতো বয়স হইলে ভাতা পাইমু।
জানা যায়, কমলগঞ্জ পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডের নছরতপুর গ্রামের মৃত খতিব উল্ল্যার দ্বিতীয় মেয়ে কয়জুন বেগম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ২২ বছর। দেশ স্বাধীনের পর বড় বোনের বিয়ের হবার পরই বাবা মারা গেলে সংসার শুরু দেখা দেয় অভাব। অভাবটাই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। অভাবের কারনে তার আর বিয়ে দেয়া হয়নি। কয়জুন বেগম থেকে যান অবিবাহিত অবস্থায়। বাবার বাড়িতে ভাই সাজিদ মিয়ার কাছে ঠাঁই হয় তার। এভাবে চলতে থাকে সংসার। এক সময় ভাই বিয়ে করেন। ভাইয়ের সংসার বড় হলে অভাব আরো বেড়ে যায়। তার বয়স বাড়তে থাকে। যৌবন পেরিয়ে তিনি এখন বৃদ্ধ। বৃদ্ধ কয়জুন বেগম এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছেন। সকাল হলেই এলাকার আশপাশ গ্রামে ঘরে ঘরে ভিক্ষা করেন। চলার এক মাত্র মাধ্যম লাঠি। ৫ ভাইয়ের সংসারে প্রতিদিন ভিক্ষা করে যা চাল সংগ্রহ করেন তাই ভাইয়ের সংসারে দিয়ে দেন। যার বিনিময়ে দু’মোটা ভাত জুটে পেটে। অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়।
রাস্তায় ভিক্ষা করার সময় আলাপকালে কয়জুন বেগম বলেন, ভাতার জন্য তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে একাধিকবার ধরনা দিলেও কোন কাজ হয়নি। ভাইয়ের সংসারে অতি কষ্টে দিন যাপন করছেন। একটি ছেড়া শাড়ী শরীরে সব সময় জড়িয়ে থাকে। কারণ টাকার অভাবে কাপড় কিনতে পারেন না। ভিক্ষাবৃত্তি না করলে উপোস থাকতে হয়। কয়জুন বেগম নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া না করায় কংকাল ষাড়ের মতো শরীর হয়ে গেছে। কয়জুন বেগমের এখন বয়স প্রায় ৬৫ বছর। তিনি প্রশ্ন করেন আর কত বয়স হলে তার ভাতা দেয়া হবে। শেষ বয়সে যদি ভাতা পেতাম তাহলে একটু সুখে শান্তিতে খেয়ে দেয়ে মরতে পারতাম ?
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনসার শোকরানা মান্না বলেন, আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হবার পর সাড়ে ৩ বছরে মাত্র ২টি বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড পেয়ে দুজন দরিদ্র লোককে দিয়েছি। আর কোন কার্ড পাইনি। তবে ভবিষ্যতে পেলে অবশ্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়জুন বেগমকে বয়স্ক ভাতার অন্তর্ভুক্ত করব।